দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আগের তুলনায় এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ মিজানুর রহমান।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।
‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণে কর্মকাঠামো এবং প্রাইভেট সেক্টর ওয়ার্কিং গ্রুপের কর্মপরিধি’ শীর্ষক এ কর্মশালায় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিজি বলেন, ‘আগের তুলনায় মানুষ অনেক বেশি সচেতন হচ্ছে ও সরকারের সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে, শুনছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে।’
আরও পড়ুন- একদিনে ১৪ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে , হাসপাতালে ২৮৬৫
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ বন্ধ করা সম্ভব না, তবে প্রাণহানি বা সহনীয় কিংবা প্রতিরোধ বা ক্ষতি প্রশমিত করা সম্ভব। যেকোনো দুর্যোগ সরকারের একার পক্ষে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সমাজের ব্যক্তিগত, ব্যবসায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অংশীজনের সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। যেকোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যদি ফাস্ট রেসপন্ডার দ্রুত সাড়া দিলে আগুনে ক্ষতি কম হয় বা প্রাথমিক পর্যায়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছে দাবি করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, ভূমিধস বা ভূমিকম্পের মতো যেকোনো দুর্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে হয়তো রিলিফ দিচ্ছি, কিন্তু ক্ষতিটা সবার, ব্যবসায়ীর তো বটেই। সে জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের চোখে যদি জল আসে, সচেতন হয়, তবেই সার্থকতা।’
মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘দুর্যোগ জীবন ঘনিষ্ঠ বিষয়। দুর্যোগ বন্ধ করা সম্ভব না, তবে প্রাণহানি বা সহনীয় কিংবা প্রতিরোধ বা ক্ষতি প্রশমিত করতে পারি। প্রতিবছর বন্যা বা জলোচ্ছ্বাস আসবে, এটা অনুমিত। দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, প্রকৃতি কিন্তু অনেক বদলেছে। সে জন্য আমাদের প্রস্তুতি রাখতে হবে ৷ বন্যার আগে কক্সবাজারের কৃষকেরা মোনাজাত পর্যন্ত করেছে। কিন্তু বৃষ্টি হয়নি। অথচ এক মাস পর বন্যা হয়ে গেল।’
আরও পড়ুন- ডেঙ্গুতে একদিনে ২১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩০১৫
দুর্যোগ ও এর প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার সমালোচনা না করে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নকাজ চলবে। দুর্যোগে উন্নয়নকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বলে সমালোচনা বা থেমে থাকলে হবে না। আর সব সরকার করে দেবে না। ব্যবসায় লাভবান হবেন কিন্তু দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাখবেন না; তা হবে না। নিজে সচেতন হই, শিখি, নিজের ঘরে স্ত্রী-সন্তানকে শেখাই। দুর্যোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয় করে ঘরে রাখি।’
কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা একটু সচেতন হলেই বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী নগদ টাকা, ভাউচার রেখে গেছেন। সব পুড়ে ছাই হয়েছে কৃষি মার্কেটে। কোটিপতি ব্যবসায়ী আজ ফকির হয়েছেন। অথচ একটু সচেতনতাই আমাদের নিরাপদ করতে পারত। দুর্যোগে সচেতনতায় ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা প্রাইভেট সেক্টরকে সম্পৃক্ত করতে হবে। অল্প খরচ, আর সচেতনতায় যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্র থাকলেই তো হবে না, প্রশিক্ষণ লাগবে ৷ ফায়ার অ্যালার্ম চালানো, পানির রিজার্ভ বাড়ানো ও হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা ও চালানো, অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানও অর্জন করতে হবে। আমাদের অনেক বড় ভবনে ইমার্জেন্সি সিঁড়ি নাই। ভবনে অগ্নি নির্বাপক রাখা, নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন চেক করা। ভেজা কাপড় দিয়েই প্রাথমিকভাবে ফাইট করা যায়। কমন কিছু জ্ঞান প্রয়োগেই আগুন প্রাথমিক পর্যায়েই আগুন প্রতিরোধ করতে পারি। সতর্কতা জরুরি।’
আরও পড়ুন- ভোটের আগে পাহাড় অশান্ত হওয়ার শঙ্কা সংসদীয় কমিটির
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সুপার প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার আ মণ্ডল নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক মডেলটি ইনস্টল এবং ব্যবহার করতে তাদের উৎসাহ দিচ্ছি। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে আগুন বা ধোয়া শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক মেসেজ দেওয়ার প্রজেক্ট নিয়েছি। দুই বছর ধরে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। এটা আমরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করার প্রক্রিয়ায় যেতে চাচ্ছি।’
অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকার বলেন, ‘১০৯০ নম্বরকে আমরা প্রমোট করছি। আগে টোল ছিল। সেটা ফ্রি করা হয়েছে। যে কেউ এখন খুব সহজেই এই নম্বর ডায়াল করে দুর্যোগ ও আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে পারছেন।’
উল্লেখ্য, স্ট্রেন্দেনিং আরবান পাবলিক প্রাইভেট প্রোগ্রামিং ফর আর্থকোয়েক রেজিলিয়েন্স (সুপার) প্রকল্পটি একটি কনসোর্টিয়াম প্রকল্প। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইডের আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), ইউনাইটেড পারপাস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।



