সরকার নির্বাচনকে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার অস্ত্র হিসেবে নিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তাদের একমাত্র লক্ষ্য গণতন্ত্র ও বিরোধী দলগুলোকে ধ্বংস করে একদলীয় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। তারা অতীতে এটি করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সফল হতে পারেনি… নির্বাচনকে অস্ত্র হিসেবে নিয়ে এবার তারা ভিন্ন স্টাইলে এই লক্ষ্য অর্জন করছে।’
সোমবার (১০ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেগম জিয়া, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকার দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দিচ্ছে না বলে আমরা আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। কিন্তু আপনারা (সরকার) নিজের স্টাইলে নির্বাচন করছেন এবং ফলাফল আপনাদের পক্ষে নিচ্ছেন।’
আরও পড়ুন- লাখ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য ‘ফাঁস’
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও জানান, তারা এখনো রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান এবং আশা করেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন আয়োজনের জনগণের দাবি মেনে নিয়ে দেশকে বাঁচাতে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। তারা মনে করেন এবং দেশের জনগণ বিশ্বাস করে যে নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতাই খুব অসুস্থ। কিন্তু তারা কেন অসুস্থ? কারণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের জন্য তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, পুরোনো কক্ষ, দেয়াল দিয়ে পানি পড়ে, কক্ষে ইঁদুর দৌড়াত–এমন পরিবেশে বেগম জিয়াকে রাখা হয়েছিল। তিনি নিজে আমাকে এ কথা বলেছেন। কারাগারে তাকে দেখতে গেলে সেখানকার লোকজনও এ কথা জানিয়েছিলেন।’
‘তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। চিকিৎসকরা বারবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন যে তার চিকিৎসা দরকার। কিন্তু সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। যখন করোনা শুরু হয়ে গেল, তখন চট করে আগেই তাকে পিজি হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর বাড়িতে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনা আবার বলেন যে তিনি নাকি করুণা করেছেন! এটা নাকি তার দয়া ছিল। কিন্তু আমরা তো দয়া চাইনি। আমরা ন্যায়বিচার চেয়েছি; প্রাপ্য চেয়েছি,’ বলেন মির্জা ফখরুল।
আরও পড়ুন- তিস্তায় নৌকাডুবি, ৩ কৃষক নিখোঁজ
তিনি বলেন যে তাদের দল ও জোটের শরিকরা তাদের বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল দল আগামী ১২ জুলাই (বুধবার) নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নতুন যাত্রা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ‘অবৈধ’ সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে দমনমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।
তিনি বলেন, ‘মোশাররফ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভীসহ দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এখন অসুস্থ। কিন্তু আমরা কাজ করছি, আন্দোলন করছি এবং মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য এই অসুস্থ অবস্থাকে নিরাময় করা এবং জাতিকে অসুস্থতা থেকে মুক্ত করা।’





