বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই হিসেবে আগামী ২৯ জুন দেশের বৃহত্তম অঞ্চললে জাতীয়ভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
সোমবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ ঘোষণা দেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দার।
তিনি জানান, আজ সন্ধ্যায় রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়ার আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৯ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
আরও পড়ুন- সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৮ জুন
এর আগে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশে ইসলামি ক্যালেন্ডারের ১২তম মাস পবিত্র জিলহজের চাঁদ দেখা যায়। ফলে দেশটিতে আগামী ২৮ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। সৌদি আরবের পাশাপাশি কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদযাপিত হবে মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবটি।
সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের এক ঘোষণায় বলা হয়, জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠায় আগামী ২৭ জুন সৌদিতে পবিত্র আরাফাহ দিবস এবং ২৮ জুন ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ইসলামের ১২ মাসের সূচনা হয়। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে হজ ও পবিত্র ঈদুল আজহার দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী, ঈদুল আজহার প্রথম দিন জিলহজ মাসের ১০ম দিনে পড়ে। আর পবিত্র আরাফাহ দিবস পালন করা হয় জিলহজ মাসের নবম দিনে।
ঈদুল আজহা মূলত ত্যাগ ও বিসর্জনের বার্তাবাহী একটি ইবাদত। এদিন পশু জবাইয়ের মাধ্যমে ত্যাগের একটি প্রতীকী প্রকাশ ঘটানো হয়। এর মাধ্যমে মনের পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে নিজেকে নৈতিক ও আত্মিকভাবে পরিশীলিত করা হয়। তাই কোরবানি যেন লোক-দেখানো উৎসব না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে তাগিদ করা হয়েছে কোরআন ও হাদিসে।
প্রায় দুই হাজার বছর আগে নিজের ছেলেকে জবাই করার মতো কঠিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আল্লাহর নবী হজরত ইবরাহিম আঃ -কে। সেই মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইবরাহিম আঃ খলিলুল্লাহ বা আল্লাহর বন্ধু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রিয় সন্তানকে জবাই করার জন্য প্রস্তুত হলেও শেষ পর্যন্ত তা করতে হয়নি তাকে। এখান থেকেই পশু কোরবানির নির্দেশনা আসে উম্মতে মোহাম্মদির জন্য।




