শালিশে উত্তেজিত হওয়ায় স্টোক করেন ইউপি সদস্য ওমর ফারুখ। এতে স্থানীয় ওষুধের দোকানি ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঢাকায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি। পরে বাড়ীতে এনে দাফন করা হয়।
এঘটনায় কয়দিন পর নিহতের মা ওই ওষুধের দোকান তালাবদ্ধ করে দেন মৃত ইউপি সদস্যের মা। প্রায় দুই মাস পর রোববার (৮ জানুয়ারী) ওই ইউপি সদস্যের বাড়ীতে উভয় পক্ষের লোকদের উপস্থিতিতে ওই দোকানীর দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মারা যাওয়া ওমর ফারুখ সদর উপজেলার উত্তর-হামছাদি ইউপির ১নং ওয়ার্ড সদস্য (সবিলপুর গ্রাম) ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। অভিযুক্ত মিঠু চন্দ্র শীল হাসন্দি গ্রামের অমৃত চন্দ্র শীলের ছেলে ও রায়পুরের মীরগন্জ বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী।
মীরগন্জ বাজারের কয়েকজন ব্যাবসায়ী জানান, গত বছরের ৫ নভেম্বর সকালে ইউপি সদস্য তার বাড়ীর আবু তাহের ও রফিকের সাথে বিরোধীয় জমি নিয়ে শালিশ বৈঠক বসেন। এক প্রর্যায়ে ওমর উত্তেজিত হলে স্টোক করেন। এসময় মীরগন্জ বাজারের ওষুধ দোকানী মিঠু চন্দ্র শীল ঘুমের ইনজেকশান ( মাইলেম) দিয়ে দ্রুত ঢাকা নিতে বলেন। পরে পথেই ওমর মারা যায়। তার মৃত্যুর জন্য ওষুধ ব্যাবসায়ীকে দায়ী করে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপুরন দাবি করে তার মা ও স্বজনরা ওই ওষুধের দোকান তালাবদ্ধ করে দেন।
পরে দুই মাস পর রোববার ইউপি সদস্যের বাড়ীতে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের লোকদের নিয়ে বৈটক বসেন। এসময় ওই দোকানীকে দূষী সাব্যস্ত করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।তামেনেনিয়ে দোকানী সোমবার সকালে মীরগন্জ বাজারে ওষুধ দোকান খোলেন।
মিঠু চন্দ্র শীল জানান, এক বছর জেলা সদর হাসপাতালে ডাক্তার হিরু আলমের সাথে ছিলাম। ৮ মাস আগে মীরগন্জবাজারে ওষুধ দোকান দেই। ইউপি সদস্য ওমর ফারুখ অসুস্থ্য হলে আমি তাকে ওষুধ ও ইনজেকশান দিতাম। ইউপি সদস্য মৃত্যুর জন্য আমাকে দায়ী করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে। একমাস পর জরিমানার টাকা দিবো বলেছি।
দোকান বন্ধ থাকায় লাখ টাকার মত ওষুধ নষ্ট হয়ে গেছে। আমি খুব ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।
ইউপি সদস্য ওমরের মা পাখি বেগম বলেন, আমার ছেলে ষ্টোক করেছে। ওই ওষুধ দোকানী ঘুমের ওষুধ দেয়া সে মারা যায়। তাই আমি দুই মাস দোকানে তালা মেরে রেখেছি। এখন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার লোকজন শালিশ করে দশ লাখ টাকার পরিবর্তে দেড় লাখ জরিমানা করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ইউপি সদস্য তার বাড়ীতে শালিশে ষ্টোক করলে দোকানী ঘুমের ওষুধ দেয়। এতে ঢাকা নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। আমরা তদন্ত করে দোকানীর ভুল ইনজেকশানের কারনে মৃত্যু বলে প্রতীয়মান। এতে ওষুধ দোকানী মিঠু চন্দ্র শীলের দেড়লাখ টাকা জরিমানাকরা হয়।
এশালিশে তিনি ছাড়াও দুই এলাকার ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন ও মোঃ সোহেল, ওমরের মা-বাবা, ডাক্তার রবি রন্জন, ব্যাবসায়ী হারন, মোঃ আবদুল, কালু, ফারুখ, ব্যবসায়ী নেতা মোঃ খোকন।
সদর থানার ওসি মোসলে উদ্দিন জানান, ইউপি সদস্য ষ্টোক করে মারা গেছেন তা শুনেছি। ভুল ইনজেকশান দেয়ায় মৃত্যু হয় এবং এর জন্য দোকানীর দোকান দুই মাস তালাবদ্ধ থাকার পর দেড় লাখ টাকা জরিমানা হয় দোকানীর তা তো জানি না। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


