বুধবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিহত রাশেদুল ইসলামের বড় ভাই মোঃ রসুলদী মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এদিকে নিহতের দগ্ধ স্ত্রী ও শিশুসন্তানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে স্বজনদের জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
দগ্ধদের পরিবার সূত্রে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ সরকার বলেন, অগ্নিদগ্ধ চারজনের একজন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে পরিবারের কাছ থেকে জেনেছি।
আরও পড়ুন- ঘুর্ণিঝড়ে লক্ষ্মীপুরে বেড়েছে মেঘনার ভাঙন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জে পৌরসভার নারাঙ্গাই এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মাংসের ব্যবসা করেন রাশেদুল ইসলাম। এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকেন তিনি। সোমবার ঝড়-বৃষ্টির কারণে বাসার দরজা ও জানালা বন্ধ করে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। ফ্ল্যাটের একরুমে রাশেদুল ও মাংসের দোকানের কর্মচারী ফারুক হোসেন (৩৮) এবং অন্য রুমে রাশেদুলের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (৩০) ও আড়াই বছরের সন্তান রিফাত ঘুমিয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে রাশেদুল ঘুম থেকে ওঠে সবাইকে ডেকে তুলে। পড়ে রাশেদুল সিগারেটে আগুন ধরানোর জন্য দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ফ্ল্যাটের একটি রুমের দেয়াল ধসে যায়। এতে রাশেদুল, তার স্ত্রী সোনিয়া, শিশু রিফাত ও দোকানের কর্মচারী ফারুক দগ্ধ হন।
তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাশেদুল, তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনসিস্টটিউটে পাঠানো হয়। দগ্ধ ফারুককে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন- ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংঃ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫
নিহত রাশেদুলের বড় ভাই মোঃ রসুলদী জানান, গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় তার ছোট ভাই, ছোট ভাইয়ের বউ ও ভাতিজাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গতকাল বিকেলে ভাইকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসকরা ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাইয়ের বউ ও ভাতিজাকেও আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ফারুক হোসেন বলেন, তিতাস গ্যাসের লাইনে গ্যাস না থাকায় গত সোমবার সংযোগ চালু রেখেই সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার ভোরে কক্ষের ভেতর উৎকট গন্ধ ছড়ালেও আমরা তা বুঝতে পারিনি। দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর পরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা (লিডার) বশির আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের বেলা দরজা-জানালা বন্ধ করে গ্যাসের লাইন চালু ছিল। পড়ে কোনো কারণে আগুন জ্বালানোর পর বন্ধ রুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।



