গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা!

Link Copied!

নীতিমালা ও অভিজ্ঞতার তোয়াক্কা না করে লক্ষ্মীপুরে সারের ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়ম ও দলীয়করণের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভার জন্য মনোনীত ৫৭ জন ডিলারের মধ্যে ৪৫ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, যুগের পর যুগ ধরে সারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাতারাতি ডিলার বানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর আবেদনের শেষ সময় পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে ৩৩৬টি আবেদন জমা পড়ে। পরবর্তীতে গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার অনুমোদিত ৫৭ জনের চূড়ান্ত তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, মনোনীতদের সিংহভাগই জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল,ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পদে রয়েছেন অথবা দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের স্বজন।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজস্ব বা ভাড়া করা ২৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার পাকা গুদাম, ব্যাংক সচ্ছলতার সনদ এবং সারের ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী, কেরোয়া, বামনী, উত্তর চর আবাবিল, চরমোহনা, রামগঞ্জ পৌরসভা, কমলনগর এবং সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে যাঁদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই কোনো গুদাম বা সারের ব্যবসার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই। কেউ রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী, কেউবা সম্পূর্ণ নতুন।

দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সার ব্যবসার ঐতিহ্য থাকা কমলনগর উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা তারেক রহমান রকি আক্ষেপ করে বলেন, “বিগত সরকারের আমলে আমাদের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছিল। আশা ছিল এবারন্যায়বিচার পাব। কিন্তু অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও অনভিজ্ঞদের ডিলার বানানো হয়েছে। কমলনগরে দলীয় পদেরপ্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে।“ একইভাবে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ২০ বছরের পুরোনো সার ব্যবসায়ী মো. শোভন বলেন, “সব নিয়ম মেনে আবেদন করেও কোনো রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় আমি ডিলারশিপ পেলাম না।“

ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে উঠে এসেছে বৈচিত্র্যময় অজুহাত। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল আজিজ বাদশা এবং বামনী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আমির হোসেন চুটু সার ব্যবসায় নতুন আসার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, তাঁরা ‘যোগ্যতা বলেই’ ডিলারশিপ পেয়েছেন। রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ অসংলগ্ন বক্তব্যে বলেন,“এখানে সারের চাহিদা কম, তবুও ডিলারশিপ নিয়েছি। এর জন্য রাজনৈতিক কোনো তদবির ছিলনা।“

ডিজিটাল বাণিজ্যের এই অভিযোগের তীর কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরীর দিকে উঠলেও তিনি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেছেন। আর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাছিবুর রহমান সাফাই গেয়ে বলেন,“গত ১৭ বছর আমাদের নেতা–কর্মীরা বঞ্চিত ছিলেন। এখন নিয়ম মেনে আবেদন করে ব্যবসা করছেন, এতে কোনো দলীয় প্রভাব নেই।“

অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নীতিমালার বাইরে গিয়ে অনভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের হাতে সারের বাজার চলে যাওয়ায় আগামী মৌসুমে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট ও সার কালোবাজারির তীব্র আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহির আহমেদ জানান, উপজেলা কমিটির পাঠানো সুপারিশ পর্যালোচনা করেই মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 422

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…