‘দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না… ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব’— একটি ঘুষ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সেই বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের উপ-পরিচালক-১ স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে (স্মারক নং: ২৭.১১.০০০০.২১৩.০১.০১৮.২৬-১৫৬) এ বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
দপ্তরাদেশে বলা হয়, বিক্রি ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বিউবো (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’-পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিউবোর নিয়ম অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা (Subsistence Allowance) পাবেন এবং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
এর আগে রোববার রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে প্রকৌশলী নুরুল আমিন ঘুষের বড় অঙ্কের অঙ্ক হাঁকাচ্ছেন। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে… ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন আমি সব সই করে দেব।”
ভিডিওর অন্য অংশে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতেও দেখা যায় প্রকৌশলীকে। সেখানে কথোপকথনে শোনা যায়, এক ব্যক্তি বলছেন, “এখানে ৩৫ স্যার।” তখন প্রকৌশলী জিজ্ঞেস করেন, “এক লাখ ৩৫?” উত্তরে ব্যক্তিটি জানান, “আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।”
ভিডিও প্রকাশের পর থেকে বিতর্কিত ওই কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিও ছড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তর থেকে তাকে বরখাস্তের কঠোর নির্দেশ এল।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার চক্রের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


