লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। পাউবোর ওই জমি শুধু রেকর্ডই নয়, তা গোপনে বিক্রিও করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে প্রতিকার চেয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুর পৌরসভার ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় (মহিলা কলেজ সংলগ্ন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ শতাংশ জমি রয়েছে। ১৯৬৫-৬৬ সালের এলএ মামলা (নথি নম্বর ৩০/১৯৬৫-৬৬) মূলে ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে জমিটি লিজ নেন স্থানীয় প্রভাবশালী আরশাদ মিয়া। পরবর্তীতে তারা এই সরকারি জমি অবৈধভাবে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজ উল্যাহ, মোহাম্মদ উল্যাহ ও আমিন উল্যাহর কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর ওই জমি কয়েক হাত বদল হয়ে বর্তমানে কয়েকজন প্রবাসী ও ব্যবসায়ীর দখলে রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাউবোর ওই জমির ক্রেতা রায়পুর শহরের ‘হানিমুন টেইলার্স’-এর মালিক বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি ভূমি ও সেটেলমেন্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারি সম্পত্তি নিজেদের নামে খতিয়ানভুক্ত করে নিয়েছেন। লিজ নেওয়া জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে বর্তমানে সেখানে বড় আকারের বহুতল ভবন ও বিপণিবিতান নির্মাণ করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমরা আরশাদ মিয়ার কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। এটি আমাদের কেনা সম্পত্তি, তাই ভবন নির্মাণ করছি। আদালত করে বা সংবাদ পরিবেশন করে কোনো লাভ হবে না।’
ভূমি রেকর্ড প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রায়পুর সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার হুমায়ুন কবির গাজী মুঠোফোনে জানান, ‘বর্তমানে আমি নোয়াখালী অফিসে কাজ করছি। মধুপুর মৌজার ওই জমিটি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬-৯৭ সালের জরিপের সময় কীভাবে ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড হলো, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তৎকালীন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার এটি ভালো বলতে পারবেন।’
এদিকে সরকারি সম্পদ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। লক্ষ্মীপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘অধিগ্রহণকৃত ২৬৬ নম্বর দাগের ওই জমির বিষয়ে ভূমি ও সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকরী প্রতিকার মেলেনি। অবৈধভাবে নির্মিত এসব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


