গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

আমি অ্যাটর্নি জেনারেল, রাষ্ট্রের কল্যাণে কথা বলে যাবঃ রুহুল কুদ্দুস কাজল

  • আমি অ্যাটর্নি জেনারেল, রাষ্ট্রের কল্যাণে কথা বলে যাবঃ রুহুল কুদ্দুস কাজল

    অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল | সংগৃহীত ছবি

Link Copied!

দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে ‘নির্মোহভাবে’ কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আজ রোববার (২৯ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নবনির্বাচিত অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরে বলেন, “আমি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি। আমি রাষ্ট্রের স্বার্থে, রাষ্ট্রের কল্যাণে, রাষ্ট্রের পক্ষে সবসময় কথা বলে যাব।“

এর আগে গত ২৫ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পান কাজল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন আজ রোববার।

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকতে পারবেন কিনা, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি সাংবিধানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। আমি একটা রাজনৈতিক দল, তার আদর্শিক অবস্থান আমার সবসময় ছিল। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে আমার কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে প্রভাবিত করবে না।

রাষ্ট্র ‘অ্যাবস্ট্রাক্ট’, রাষ্ট্র সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সুতরাং রাষ্ট্রের পক্ষে সরকারের নীতি নৈতিকতার সঙ্গে, সততার সঙ্গে, কর্মনিষ্ঠার সঙ্গে, দেশপ্রেমের সঙ্গে, দেশের মানুষ জনগণ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, আমি নির্মোহভাবে সেটা করে যাব ইনশাআল্লাহ।“

বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশের বিষয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোতে রাষ্ট্রের যে তিনটি অর্গান তারা স্বাধীন এবং স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। নির্বাহী বিভাগ তার মতো কাজ করে, পার্লামেন্ট এতোদিন ছিল না, পার্লামেন্ট এসেছে, পার্লামেন্ট কিন্তু সার্বভৌম। বিচার বিভাগও সার্বভৌম।”

জুলাই ঘিরে অনেক বিষয় আদালতে গড়াবে, সেই জায়গায় কোনো চাপ অনুভব করছেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, “আই অ্যাম এ সিজনড লইয়ার। সুতরাং আইনগতভাবে সংবিধানের কথা বলতে, আইনের ব্যাখ্যা দিতে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কোনো চাপ অনুভব করি না; এবং আমি অনেক সময় সবাইকে ফান করে বলি যে, অনলি থিং দ্যাট আই ক্যান ডু প্রোবাবলি কমফোর্টেবলি, সেটা হচ্ছে আমি ওকালতিটা ঠিকমতো করতে পারি। এবং আমার আজকের এই নিয়োগটা আমি মনে করি যে আমার যে পেশাগত উৎকর্ষতার একটা স্বীকৃতি বলতে পারেন। এবং এই চ্যালেঞ্জটা শুধুমাত্র যে আগামী দিনে আমাকে নিতে হবে তা না, অতীতে আমি তো নিয়েছি।“

অফিসটাকে অর্থবহ করতে গেলে আইনজীবীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত জীবনে আমি নিজে সাংবাদিকতা করেছি। আমি অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করি। কিন্তু একই সঙ্গে অপতথ্য, এআই তথ্য দিয়ে যেন মানুষ বিভ্রান্ত না হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।“

সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয় তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি সেদিনও ওনাকে (প্রধান বিচারপতি) বলেছিলাম। আমি এখনও মনে করি যে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন ব্যক্তি। উনার ভালো কাজেরও কিন্তু ইতিমধ্যেই উনি স্বাক্ষর রেখেছেন। আমি আপনাদেরকে কথা দিতে পারি যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কথা হয়নি। আমি নিশ্চিত আপনাদের এই কনসার্নটি, যেটি আমি ইতিমধ্যে অবহিত, সেটি আমি তার কাছে তুলে ধরব। আমি মনে করি তিনি এটা অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে আপনাদের সহযোগিতা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস কাজলের জন্ম ১৯৭০ সালের ১৯ নভেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর ১৯৯৫ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হন। ছাত্র থাকা অবস্থায় কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন। পরে যুক্তরাজ্যে গিয়ে আইনের ওপর আরো পড়ালেখা করেন কাজল। সেখানে সিটি ইউনিভার্সিটির অধীনে আইনের ওপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা করেন। পরে ২০০৬ সালে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ সনদ পান।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তাকে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠায় সরকার। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে সেকেন্ড সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে কাজল আবার আইন পেশায় যোগ দেন এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে ওকালতি করার অনুমতি পান।

রুহুল কুদ্দুস কাজল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছাত্রজীবন থেকেই। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে কাজলের ভূমিকা ছিল প্রথম সারিতে। খালেদা জিয়া ও তারেক রকমানের পক্ষে মামলা লড়তে বিএনপির আইনজীবী দলেও ছিলেন তিনি। সেই পথ ধরে দলে তার ভালো অবস্থান তৈরি হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে হট্টগোল ও মারামারির মামলায় ২০২৪ সালের মার্চে কাজলকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন কাজল। পরে তার নেতৃত্বে বিএনপির আইনি সহায়তা সাব-কমিটি করা হয়। এবার তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়েছেন।

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6252

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
  • আমাদেরকে ফলো করুন…