গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট, মিলছে ৫: লোডশেডিংয়ে নাভিশ্বাস ৪ লাখ মানুষের

Link Copied!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত তিন দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় চার লাখ মানুষ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায়পুর পৌর এলাকায় দিনে গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রাম পর্যায়ে চিত্র ভয়াবহ। ১০টি ইউনিয়নে দিনে-রাতে অন্তত ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। একটু বাতাস কিংবা সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ। গভীর রাতে বিদ্যুৎ গিয়ে ভোরে আসার ঘটনা এখন নিত্যদিনের। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের অবস্থা শোচনীয়।

রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। তবে কয়েক দিন ধরে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। বিপুল এই ঘাটতি মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুতের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে রেনু-পোনা উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বিসিক শিল্পনগরীর হিমাগার ও বেঙ্গল শু কারখানায় কয়েক শ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যাংক, হাসপাতাল ও প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

পৌরসভার পশ্চিম কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায়, তার কোনো ঠিক নেই। বুধবার রাত ১০টায় গিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে এসেছে। গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে।’

রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোশারফ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ উপজেলার গ্রিডে সমস্যা এবং সঞ্চালন লাইনে গাছপালার বাধার কারণে লোডশেডিং প্রকট হয়েছে। আমরা ১৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৬-৭ মেগাওয়াট। সরবরাহে ঘাটতি থাকায় আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারছি না। মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের করার কিছুই নেই।’

বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রিড আপডেটের জন্য দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সহযোগিতা মেলেনি। ফলে সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা না বাড়ায় এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

এদিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোডশেডিং কমাতে সরকারি নির্দেশনায় শপিং মল ও বিপণিবিতান সন্ধ্যার পর বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরও লোডশেডিং কমছে না বরং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার, রাখালিয়া ও আখনবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—দ্রুত গ্রিড সংস্কার করে রায়পুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 275

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ