গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

ইরান যুদ্ধ ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে, জড়িয়ে পড়তে পারে যেসব দেশ

  • ইরানের পতাকা Iranian flag ইরান Iran

    ইরানের পতাকা | সংগৃহীত ছবি

Link Copied!

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা থাকলেও বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে দাবি করলেও তার এই বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বাস্তবতা বলছে এই সংঘাত স্বল্পমেয়াদি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ২০২৭ সাল পর্যন্তও গড়াতে পারে। সেই সঙ্গে এর অর্থনৈতিক অভিঘাত ও বৈশ্বিক বিপর্যয়ের পূর্ণ প্রভাব এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি বলেও তারা মনে করছেন।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল আলফা পার্টনার্স-এর বিশ্লেষক বাইরন ক্যালান তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ক্রমেই আরও বিস্তৃত ও জটিল আকার ধারণ করছে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই সংঘাত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে ৪৫ শতাংশ, আর ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা ধরা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

ইতোমধ্যে চার সপ্তাহ অতিক্রম করা এই সংঘাতের বিস্তারও উদ্বেগজনক। যুদ্ধের প্রভাব ইরাক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ চলছে। একইসঙ্গে ইয়েমেনেও এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হুমকি হয়ে উঠছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য নতুন করে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

এই প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তুলছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে—এমন আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের গড় মূল্য এক মাসের মধ্যে প্রায় এক ডলার বেড়ে প্রতি গ্যালনে প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে, কারণ আমদানি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতির ওপর এই বাড়তি চাপ সুদের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও জটিল হয়ে উঠছে, যার ফলে আবাসন খাতে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।

অন্যদিকে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষক বাইরন ক্যালানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘উল্লেখযোগ্য আঘাত’ হানতে পারবে—এমন ধারণা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। তবে তিনি মনে করেন, ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েন করতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্য নিয়ে। এই ধরনের অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। কিন্তু সেখানে স্থলবাহিনী পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যালান তার বিশ্লেষণে আরও বলেন, খারগ দ্বীপ দখলের প্রচেষ্টা বাস্তবে অযৌক্তিক মনে হতে পারে, কারণ সেখানে জ্বলতে থাকা তেল স্থাপনাগুলো দখলকারী বাহিনীর জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যদি ইরানের হাতে থাকে, তাহলে তা সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ফলে এই দেশগুলোও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিক আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেছেন, শুধু যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন এমন একটি সমাধান, যা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং পারমাণবিক হুমকি, ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম ও প্রণালির ওপর আধিপত্য বন্ধ করবে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের অভিমত, যদি কোনো সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে হরমুজ প্রণালির ‘প্রহরী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়, তাহলে সংঘাত থামার পরিবর্তে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং ধীরে ধীরে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে—যার স্থায়িত্ব ২০২৭ সাল পর্যন্তও বিস্তৃত হতে পারে।

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6252

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ