যারা মুখে ইনসাফের কথা বলেন, বাস্তবে তারা ইনসাফের রাজনীতি করেননি; বরং মানুষকে জিম্মি করে গুপ্ত রাজনীতি করেছেন—এমন মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির ধারক ছিল বিএনপি এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে পৌর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী এ্যানি বলেন, দেশের রাজনীতিতে অনেকেই ইনসাফ ও ন্যায়ের কথা বললেও বাস্তবে তারা জনগণের কল্যাণে কাজ করেননি। বরং বিভিন্ন সময়ে তারা মানুষের অধিকারকে জিম্মি করে গোপন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজনীতি করেছেন। তিনি বলেন, ইনসাফের রাজনীতি সব সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে এবং ন্যায়ের রাজনীতি হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি সব সময়ই বিএনপির রাজনীতি। আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই ইনসাফ ও ন্যায়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
এ সময় তিনি যুবসমাজের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মূল শক্তি হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। যুবদল ও ছাত্রসমাজকে সামনে রেখে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, আগামী দিনে যুবদল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমান খাল খননের মতো ঐতিহাসিক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। তার সেই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল।”
তিনি বলেন, উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার যে স্বপ্ন জিয়াউর রহমান দেখিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর পৌর যুবদলের সভাপতি ফয়েজ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলিম হুমায়ুন এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন এবং দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবসমাজকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ইফতার মাহফিলটি নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।


