লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘাটসংলগ্ন তেল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে তেল মজুদ রেখে বাজারে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এতে ঘাটে চলাচলকারী নৌযানগুলো তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজুচৌধুরীর হাট ঘাট এলাকায় বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রলার, স্পিডবোট ও পণ্যবাহী নৌযানগুলো নিয়মিতভাবে এখানকার তেলঘাট থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে। তবে গত কয়েক দিন ধরে ঘাটের বেশির ভাগ তেল বিক্রেতা জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ তাদের গুদামে তেল মজুদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন নৌযান মালিক ও শ্রমিকেরা।
নৌযান চালকেরা জানান, হঠাৎ করে তেল না পাওয়ায় অনেক নৌযান ঘাটেই আটকে আছে। এতে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। কয়েকজন চালক বলেন, ‘ঘাটে তেল আছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দিচ্ছেন না। আমরা সকাল থেকে ঘুরছি, কোথাও তেল পাচ্ছি না।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মিলে সিন্ডিকেট গঠন করে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ঘাট এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী অবশ্য সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নৌযান মালিক ও শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, ঘাট এলাকায় তেলের মজুদ যাচাই করে দ্রুত বিক্রির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মজুচৌধুরীর হাট ঘাটটি লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে অসংখ্য নৌযান চলাচল করে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


