বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরকে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আগেই লিখিতভাবে অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি।’
গুরুতর অসুস্থ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গত দুই মাসের বেশি সময় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার তাঁকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন— অনুমতি না নিয়েই দুই শিক্ষক নেদারল্যান্ড, অবশেষে শোকজ
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আমেরিকার জন হপকিন্স হাসপাতাল থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, রাতেই তাঁরা ঢাকায় আসবেন।
এ বিষয়ে সরকারে অবস্থান জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ওনারা (বিএনপি) যখন আমাদের জিজ্ঞাসা করেছেন, আমরা ওনাদের অনাপত্তি দিয়েছি এবং ওনাদের আসার ব্যাপারে যে যে ব্যবস্থা করার কথা আমাদের জানিয়েছেন, আমরা সেসব ব্যবস্থার বিষয়ে সব সহযোগিতা করেছি। ওনারা লিখিতভাবে আমাদের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। আনার ব্যবস্থা সরকার করছে না, ওনারা করছেন।’
আরও পড়ুন— বড়াইগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের দুই সন্তানের মৃত্যু
এর আগেও তাঁকে বেশ কয়েকবার সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে আসছেন তাঁরা।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদ্রোগে ভুগছেন।
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়।



