রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা-চট্রগ্রাম ও চাঁদপুর গুরুত্বপুর্ন আঞ্চলিক মহা-সড়ক। আনন্দ নামের শুধু একটি গণপরিবহন থাকায় বিপুল-সংখ্যক (অনিবন্ধিত) পরিবহন নেমেছে সড়কে। ফলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বাস না থাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি চড়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন যাত্রীদের কাছ থেকে। অনেক যাত্রী হয়রানীর কারনেও থানায় অভিযোগ করেনা।
সোমবার (১০ এপ্রিল) রায়পুর প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা, বাসাবাড়ীবাজার, রাখালিয়া, খাসেরহাট ও হায়দরগন্জ এলাকা ঘুরে দেখে গেছে প্রতিটি সড়কই এখন পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে কেন্দ্র করে কর্মজীবী মানুষদের সিংহভাগ এখনো কেনাকাটায় ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। আগামি শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়ীমূখী হবেন মানুষ। এখনই মানুষের বেশি উপস্থিতির কারণে সড়কে সুযোগ বুঝে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর রিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করে বলে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।
চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট থেকে রায়পুরে আসা শাহিনুর বেগম বলেন, স্বামী বিদেশ থাকায় সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবো। তবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস (আনন্দ ও বোগদাদ পরিবহন) না পাওয়ায় সিএনজি অটোরিকশায় যেতে চাইলাম। ৮০-৯০ টাকার ভাড়া চাইল ১৫০-২০০ টাকা। এরুটে বাস কম থাকার সুযোগ নিচ্ছেন চালকরা।
রায়পুর থেকে চাঁদপুর যেতে বোগদাদ ও আনন্দ পরিবহনের বাসের অপেক্ষায় ছিলেন গ্রামের বাড়ি ঈদ করবেন বেসরকারি চাকরিজীবী মোঃ সিমুল বলেন, অন্যদিন ১০ মিনিট পরপর এখান থেকে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের বাস পাওয়া যায়। আজ ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু বাস নাই। তাছাড়া বাসের সংখ্যা অনেক কম।
হায়দরগঞ্জ থেকে রায়পুর বাসটার্মিনাল পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় এসেছেন আজিজ ইসলাম ও তার পরিবার। কিন্তু ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে জানিয়ে আজিজ বলেন, রায়পুরে আনন্দ পরিবহন ছাড়া অন্য কোন যাত্রীবাহি বাস নাই। তাই বাধ্য হয়ে সিএনজিতে এসেছি। বাস কম, মানুষের মুভমেন্ট আছে, এই পরিস্থিতি বুঝে লক্ষ্মীপুরে ৫০-৬০ টাকার কমে কোনো সিএনজি আসতে চাইল না। বাধ্য হয়ে ৫জন বেশি ভাড়ায় আসলাম।
উত্তর চরবংশি গ্রাম থেকে সিএনজি করে রায়পুরে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত রিকশায় আসা আব্বাস হোসেন নামে এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, বহু কস্টে রায়পুর শহরে এসেছি। আনন্দ পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস। এ সুযোগে দূরত্বের অজুহাতে বেশি ভাড়া ছাড়া যেতে চাচ্ছেন না সিএনজি-অটো চালকরা। বেশি ভাড়ার সঙ্গে তারা আবদার জুড়ে দিচ্ছেন, স্যার সামনে ঈদ, বকশিশ দেন, পরিবার নিয়ে চলতে হবে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আক্তার মিয়া বলেন, ঈদের আগে বা পরের ৫/৬ দিন এমনিতেই যাত্রী কম-বেশি থাকে। তাছাড়া রায়পুরে গণপরিবহন একটি। কিন্তু জমা-খরচ আমাদের কাছ থেকে কম নিচ্ছেন না মালিকরা। ঈদ উপলক্ষে পরিবারকে সময় না দিয়ে আমরা রাস্তায় নেমে গাড়ি চালাচ্ছি। সাধারণ মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরছে। তাই তাদের কাছ থেকে এভারেজ ভাড়ার পাশাপাশি ঈদ বোনাস হিসেবে কিছু বকশিশ চেয়ে নিচ্ছি। কেউ ইচ্ছে করেই ঈদ বকশিশ দিচ্ছেন। আবার অনেকের কাছে ২০/৫০ টাকা বেশি চেয়ে নিচ্ছি।
রায়পুরের ট্রাফিক মোড় থেকে সরকারি হাসপাতাল যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠে কথা হয় চালক এরশাদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০/২৫ রোজায় আমরা গ্রামে (মেঘনা নদীর পাড়ে) ঈদ করতে যাইনি, একটু বাড়তি রোজগার হবে এই আশায় শহরে থেকে গিয়েছি। টুকটাক বাড়তি আয় হচ্ছে, তবে খুব বেশি নয়। আমরা গরিব মানুষ, একটু বেশি ভাড়া চেয়ে নিই যাত্রীদের কাছ থেকে। যাত্রীরাও খুশি হয়ে বকশিশসহ ভাড়া দেয়।
রায়পুরে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট পরোবিল চক্রবর্তী শীর্ষ সংবাদকে বলেন, সড়কে গনপরিবহনের সংখ্যা অনেকটাই কম। অনিবন্ধিত অটোরিকশা-সিএনজির কারনে একদিকে যেমন যানজট, তেমনি সড়কগুলোতে চলাচলে অতিরিক্ত ভাড়াও নিচ্ছে তারা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সিএনজি চালকদের সাবধান করে দেয়া হয়েছে।


