টকবগে যুবক রুবেল হোসেন। আজ শনিবার (১এপ্রিল) ওমান যাবেন। তাই দুলাভাইকে নিয়ে সিএনজিযোগে রায়পুর হয়ে চাঁদপুর লঞ্ছঘাটে যাচ্ছেন রুবেল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস -ওমান যাওয়া হলোনা। বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী পরিবহনের ধাক্কায় সিএনজি থেকে সিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রুবেল ও তার দুলা ভাই। এসময় আহত হয়েছে আরো ৪জন।
শুক্রবার বিকালে-রায়পুর ও চাঁদপুর আঞ্চলিক মহা সড়কে আনন্দ পরিবহনের ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চাঁদপুর সদরের বাগাদী কাদির মার্কেট সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর চর রমণি মোহন গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. রুবেল (২৫) ও রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চর কাছিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৫)।
স্থানীয়রা জানান, আনন্দ পরিবহনের বাসটি চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রায়পুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসলে বিপরীত থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা রায়পুর থেকে চাঁদপুরে প্রবেশ করার সময় এ ম্রমান্তিক সংঘর্ষ হয়।
নিহতদের স্বজনেরা জানান, সোহেল রানা ওমানের উদ্দেশ্যে সিএনজিযোগে-দুলভাইকে নিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাচ্ছিলেন। এসময়-বাস সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করেন সোহেল। শনিবার সকাল ১০টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল তার।, আহতদের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদের ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার নিহত সোহেলের মা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আঁর মাতিন-রতন নাই। চাইর লাখ টেয়া দেনা-হেনা কষ্ট-দুঃখ করি বিদাশের লাই লাইন দিছি। কে জাইনতো আঁর বাবা শ্যাষ অই যাইবো। আঁর ঝিঁ ও জামাইগাও নাই। ঝিঁয়ের ঘরো ওগ্গা মাইয়া আছে। আন্ডা অন নিঃস্ব অই গেছি।’
নিহত রুবেলের বাবা আবু কালাম সর্দার বলেন, ‘আঁর মাইজ্জা হোলাগারে চাপা দি মাইচ্ছে আনন্দ পরিবহন। আঁই এর বিচার চাই।’
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, শুক্রবার বিকালে ৩টার দিকে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের বাগাদী ইউনিয়নের কাদির মার্কেটের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাথে আনন্দ পরিবহনের সংঘর্ষে সোহেল রানা ঘটনাস্থলে মারা যান এবং নিহত রুবেলের চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। ৪ জন যাত্রী আহত হন। বাস ও সিএনজি আটক আছে। নিহতদের পরিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।


