লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি দিয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ও ইউএনও। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, “রায়পুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা” শিরোনামে বুধবার সন্ধ্যায় শীর্ষ সংবাদে এই খবর প্রকাশিত হয়। এতেই তোলপাড় সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।
বুধবার (৬ মে) রাতেই কেন্দ্র সচিব ও সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী, হল সুপার ওই স্কুলেরই সহকারী শিক্ষক মেছের আহমেদ এবং ট্যাগ অফিসার (পল্লী উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তা) ফাতেমা আক্তারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান) কার্তিক চন্দ্র সরকারকে নতুন কেন্দ্র সচিব এবং একাডেমিক সুপারভাইজার মাইন উদ্দিনকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার রাতে (৭ মে) ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৫ মে) রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি কেন্দ্রের দ্বিতীয় ভেন্যুতে এ ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রের অপর ভেন্যুতে সঠিক প্রশ্নেই পরীক্ষা হয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল ৩ নম্বর সেটে। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়া হয় ১ নম্বর সেটে। সেখানে পরীক্ষা দিয়েছেন ১৩০ জন পরীক্ষার্থী।
ঘটনাটি বুধবার দুপুরে (৬ মে) জানাজানি হলে বোর্ড থেকে শোকজ করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকীকে। তবে প্রশ্নপত্র ভুলের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারে অন্য স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সময়। এরপর অনেকেই দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারেনি বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে।
এই ঘটনাকে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা বলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। ওই সেটের প্রশ্ন অনুসারেই শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষার খাতা মিলিয়ে ফেলার পরেই ভুলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই সেন্টারের খাতাগুলো আলাদা করা সম্ভব হয়নি।
অসাবধানতার কারণে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকী। তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য একটি ফ্লোরের সিসিটিভি সংক্রান্ত জটিলতা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন মেছের আহমেদ নামের আরেকজন শিক্ষক। কিন্তু নিয়ম অনুসারে কেন্দ্র সচিবেরই প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা। নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে পরীক্ষার কেন্দ্রে বস্তাবন্দি করে দুটি পৃথক সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের জন্যেও কেন্দ্রে ‘১’ এবং ‘৩’ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল। এরপর পরীক্ষার আগে মোবাইল ফোনে নির্ধারিত সেটের নির্দেশনা আসার পর সেই সেটের প্রশ্নের বস্তা খোলার কথা কেন্দ্র সচিবের।
সেদিনও কেন্দ্র সচিবের মোবাইল ফোনে ‘৩’ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। কেন্দ্র সচিব এসএমএসটি দেখে এক নম্বর সেটের বস্তাটি আলাদা করেছিলেন। কিন্তু বস্তাটি খোলেন আরেক শিক্ষক হল সুপার মেছের আহমেদ।
এসএসসি কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, প্রশাসন থেকে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।


