লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি গরু বাজারের ইজারা দরপত্র আহ্বানের পর তা স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানে সেখানে ‘খাস’ (সরকারিভাবে) হাসিল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হাট বসানো এবং নিয়মবহির্ভূত ‘কাঁচা’ রশিদে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাহার আলী মোল্লারহাটে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন সাবেক ইজারাদার হারুনুর রশিদ হাওলাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে। হাটটি বর্তমানে হারুনুর রশিদের নিজস্ব জমিতেই বসানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এটি জেলার অন্যতম বড় পশুর হাট। প্রতি হাটে এখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার হাসিল আদায় হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোল্লারহাট বাজারের সীমানা নির্ধারণ না করেই ইজারার দরপত্র আহ্বান করেছিল উপজেলা প্রশাসন। এতে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দরদাতা মনোনীত হন। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রশাসন থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আগামী ছয় মাসের জন্য ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
গত শনিবার (২ মে) মোল্লারহাট গরু বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক ইজারাদার হারুন হাওলাদারের মালিকানাধীন জমিতে হাট বসেছে। হারুনের নিয়োগ করা ব্যক্তিরাই টেবিল পেতে হাসিল আদায় করছেন। পাশে বসে ছিলেন চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মফিজুল ইসলাম। দেখা গেছে, প্রতিটি গরু থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা এবং ছাগল থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল নেওয়া হচ্ছে। হাসিল আদায়ের জন্য চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তারের সই করা রশিদ ব্যবহার করা হলেও তাতে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি। রশিদে জমির বিবরণ (মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর), জমির পরিমাণ বা সময়ের কোনো উল্লেখ ছিল না। এমনকি রশিদে কোনো ক্রমিক নম্বর বা স্বাক্ষরদাতার সিলমোহরও দেখা যায়নি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
হাটে আসা গরু ক্রেতারা অভিযোগ করেন, প্রতি গরুতে দুই হাজার টাকা হাসিল নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত চড়া। এতে সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ইজারার সর্বোচ্চ দরদাতা মনির হোসেন বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে ইজারা না দিয়ে স্থগিতাদেশের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন খাস আদায়ের নামে অনিয়ম চলছে।’
সাবেক ইজারাদার হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘আমার জমিতে হাট বসছে, প্রশাসন আমাকে এর জন্য ভাড়া দেবে। তবে ভাড়ার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।’
জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওছার বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর একটি রিটের প্রেক্ষিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসে। এ কারণে ইজারা স্থগিত করে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রশিদে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হবে। বাজার থেকে কত টাকা আদায় হচ্ছে বা হাসিলের হার কত—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এই হাটের ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, যার সরকারি মূল্য ধরা হয়েছিল ৬৫ লাখ টাকা। আদালতের স্থগিতাদেশের পর বর্তমানে সেখানে খাস আদায়ের কার্যক্রম চলছে।




