বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই আসামির কাছ থেকে ফুল গ্রহণ এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. আল ইমরান খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য অনুযায়ী, ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে ফয়সাল আহমেদ খান ও মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলাল রয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ফয়সাল আহমেদ খানের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার পল্টন থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির নম্বর ০২/২০২৫। এতে তাকে ১৬৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১০৯/১৪৯/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩৭৯/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ২০১২ সালের ২৫ মার্চ আখাউড়ায় ফেন্সিডিল ও ইয়াবার চালানসহ আটক হওয়ার পর মাদক বহনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফয়সাল আহমেদ খানকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলালকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক হিসেবে স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও ২০২৫ সালের ৬ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই মামলায় তাকে ৬৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ফরদাবাদ গ্রামের এক প্রতিবেশীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দুলালের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে পরে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ফয়সাল আহমেদ খান ও মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলাল নবাগত ইউএনও মো. আল ইমরান খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সেলিম মিয়াসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, মোল্লা নাসির উদ্দিন দুলাল ও ফয়সাল আহমেদ খান নিয়মিত বাঞ্ছারামপুর থানায় যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজের কয়েকজনের অভিযোগ, মামলার আসামিদের সঙ্গে একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রকাশ্য ছবি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং এতে স্থানীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিদের কাছ থেকে নতুন ইউএনওর ফুল গ্রহণ এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

