লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রাখালিয়া গ্রামে ঘরবাড়ী এবং বাজারের প্রায় ২’শ ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানের উপরে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা দিনে দিনে মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছেG নতুনভাবে কাজ ও সংস্কার না হওয়ায় এ অবস্থা হচ্ছে। অন্তত ৩০ বছর আগে স্থাপিত হয়েছে এখানকার বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাপনা।
এ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। এসব লাইনের তারে জড়িয়ে প্রাণহানিসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। সঞ্চালন লাইন থেকে বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে হুক দিয়ে গ্রামের বাড়িগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ব্যবস্থাপনায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা পারে। তবে বিদ্যুৎ এর রায়পুরের রাখালিয়া জোনাল অফিস বলছেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।
অপরদিকে, সোমবার দুপুরে (২৮ আগস্ট) রাখালিয়া বাজারের পশ্চিম গলির মোড়ে ব্যাবসায়ী ওসমান গনির ভবনের উপর দিয়ে নতুন করে খুটি ও তার লাগানোর কার্যক্রম শুরু করে বিদ্যুৎ কর্মীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্থ ওসমান গনি বাধা দিলেও তারা শুনেননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি বিদ্যুৎ এর খুটি উচ্ছেদ চেয়ে ডিজিএম এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন- গাইবান্ধায় নারী নির্যাতন বন্ধে মহিলা ফোরামের মিছিল সমাবেশ
লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া বাজার এবং তার আশেপাশের গ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ এসব চিত্র চোখে পড়ে।
সরেজমিন দেখা যায়, সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া গ্রামে ও রাখালিয়া বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার কারণে চরম আতঙ্কে রয়েছেন এখানকার প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাও সনাতন ও দীর্ঘদিনের।
এখানে ৪৪০ ভোল্টের জন্য রয়েছে ৬টি ট্রান্সফরমার। দেখলে মনে হয় বাজারে ভবনের ছাদ ও বসতবাড়ীর ঘরের টিনের চালের উপরে অবস্থিত এসব ট্রান্সফরমার। অন্তত ৩০ বছর আগে আমলে স্থাপিত হয়েছে এগুলো। বিদ্যুতের তারগুলো যেন বাজার ও আশেপাশের বাড়ির ছাদ বা টিনের চাল ছুঁই ছুঁই করছে। আর ওই তারগুলো থেকেই বৈদ্যুতিক অন্যান্য তারের মাধ্যমে হুক দিয়ে প্রতিটি দোকান বাড়ির সংযোগ লাইন স্থাপন হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ কোথাও ঘরের ছাদে কিংবা চালের উপর দিয়ে নেয়া হয়েছে। কোথাও আবার গাছের ফাঁকে ফাঁকে তার টেনে দোকানের পাশে ও বসবাসের ঘরের ওপর দিয়ে টানা হয়েছে।
ফলে ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টিতে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের সংযোগ তার ছিঁড়ে সড়ক বা বাড়ির পাশের রাস্তা ও খোলা জায়গায় পড়ে থাকে। পরে অসাবধানতাবশত ওইসব তারে জড়িয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গ্রামবাসীরা। গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এখানে অনেকে ব্যাবসায়ী মারাত্নক আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন- বিএনপির কালো পতাকা মিছিল শুরু
এ বিষয়ে রাখালিয়া বাজারের ব্যাবসায়ী ওসমান গনি বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এখানকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হচ্ছে না বলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আমার ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নতুন খুটি স্থাপন ও ছাদের ওপর তার দিয়ে সংযোগ দিচ্ছেন বিদ্যুৎ অফিস। তাই খুটি স্থাপন না করতে দরখাস্থ দিয়েছি। তাছাড়া বাতাসের গতি একটু বেশি হলে অথবা পাখির পাখার আঘাত লাগলেই অনেক সময় লাইন বন্ধ হওয়াসহ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। ভোল্টেজ আপ-ডাউনের সমস্যাও রয়েছে। এ সমস্যার কারণে প্রায়ই ব্যাবসায়ীদের ইলেকট্রিক জিনিসপত্র নষ্ট হয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও রাখালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এডঃ মারুফ বিন জাকারিয়া বলেন, ‘রাখালিয়া গ্রামে ও বাজারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খুঁটির দূরত্ব বেশি হওয়ায় সঞ্চালন লাইন ভবনগুলো পাশে ঝুলে আছে বিপজ্জনকভাবে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন তিন সহস্রাধিক গ্রাহক। জরুরীভিত্তিতে তার আপডেট দরকার।’
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ এর রায়পুর জোনাল অফিস এর ডিজিএম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ মন্ত্রণালায়ের মাধ্যমে নতুন খুটি স্থাপন ও তার দিয়ে সঞ্চালন লাই প্রক্রিয়া চলছে। রাখালিয়া বাজারের ব্যাবসায়ী ওসমান গনি তার ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর দিয়ে সংযাগ না দেয়ার জন্য আবেদন দিয়েছেন। তা দেখে ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নাসিরাবাদে খুব শিগগির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।’





