টালিউডে দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলির জুটি মানেই দর্শকের বাড়তি আগ্রহ। তার সঙ্গে অ্যাকশন, রোম্যান্স, প্রতিশোধ আর জমজমাট সংলাপের মিশেল, সব মিলিয়ে ‘দেশু ৭’ ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। ছবিটির বিশেষ আকর্ষণ শুধু এই জনপ্রিয় জুটির প্রত্যাবর্তন নয়, পরিচালক হিসেবে দেবের প্রথম আত্মপ্রকাশও। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে কতটা সফল হলেন তিনি, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছে ছবিটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-এর চলচ্চিত্র পর্যালোচনা অনুযায়ী, ‘দেশু ৭’ দর্শকের বিনোদনের চাহিদা পূরণ করার মতো একটি ছবি। পরিচালনায় প্রথমবার হাত দিয়েই বাণিজ্যিক সিনেমার উপাদানগুলোকে একসঙ্গে সাজানোর চেষ্টা করেছেন দেব।
ছবির গল্পের পটভূমি সীমান্তপুর। চোরাচালান, মাদক কারবার ও নারী পাচারের মতো অপরাধে জর্জরিত এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণ হারান ভারতীয় জওয়ানরা। অপরাধীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা দেবাদিত্য অধিকারীকে। তবে একসময় খুনের অপরাধে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান শুরু করলেও দেবাদিত্যের সামনে এসে দাঁড়ায় অতীতের প্রেম। তাঁর পুরোনো ভালোবাসা শুভস্মিতা এখন অন্যের স্ত্রী। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ব্যক্তিগত আবেগের এই টানাপোড়েন গল্পে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের ছবিটিতে অ্যাকশন, আবেগ, হাস্যরস ও রোম্যান্সের সমন্বয় ঘটিয়েছেন দেব। দীর্ঘ সময়ের ছবি হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গল্পের গতি ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি। যদিও কিছু ঘটনা আরও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা যেত বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিনেতা হিসেবে দেব তাঁর পরিচিত নায়কোচিত উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রসায়ন ছবির অন্যতম আকর্ষণ। অন্যদিকে, দুই যমজ ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। দুই চরিত্রের স্বভাব ও অভিব্যক্তিতে পার্থক্য তুলে ধরে খলনায়ক হিসেবে নিজের অভিনয়দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
ছবিতে অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও প্রদীপ ভট্টাচার্য কমেডির মাধ্যমে বিনোদনের মাত্রা বাড়িয়েছেন। ইধিকা পালের উপস্থিতিও ছবির সামগ্রিক আবহকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
ছবির আবহসংগীত পরিচালনা করেছেন রথীজিৎ ভট্টাচার্য। তাঁর সংগীত অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। স্যাভি ও নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়ের গানও উৎসবের আবহের সঙ্গে মানানসই হয়েছে। পাশাপাশি চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনা ছবির গতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
তবে কিছু পার্শ্বচরিত্রের পরিসর আরও বাড়ানো যেত বলে মনে হয়েছে। একই সঙ্গে দেবাদিত্যের অতীত এবং তাঁর কারাবন্দি হওয়ার কারণ আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরলে গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ত। কয়েকটি জায়গায় চিত্রনাট্যের দুর্বলতাও চোখে পড়েছে।


