বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে বারন করায় মরিয়ম বেগম (২২) নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম জহিরুল ইসলাম। সোমাবার (২০ জুলাই) এঘটনার ২ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত জহিরুল।
এর আগে রোববার(১৯ জুলাই) দিবাগ গভীর রাতে রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রম্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায় এঘটনা ঘটে। জহিরুল ব্রম্মপাড়া ছাড়া বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
ভাইরাল ২ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের পর ‘ও বাবা, ও বাবা’ বলে চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি করছে গৃহবধু মরিয়ম। কখনো বিছানায় এবং আবার কখনো মেঝেতে শুয়ে কাতরাচ্ছে সে। এসময় স্বামী জহিরুল বিছানার উপর বসে বকাবাধ্য করছে। পাশেই ৫ মাসের শিশু পড়ে ছিলো। এসময় মরিয়ম তার উপর পাশ্ববিক নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রতক্ষদশীরা জানায়, বিগত ২বছর পূর্বে চট্টগ্রামের মরিয়মকে বিয়ের পর রামগঞ্জে নিয়ে আসে জহিরুল। পরে ওয়াপদা টেকের পাশে ঘর করে সংসার পাতে তারা। তাদের পরিবারে ৫ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে। মরিয়মের আত্মীয়-স্বজন না থাকায় জহিরুল প্রায়ই গৃহবধূ মরিয়মের উপর নির্যাতন চালাতো। ঘরে ৫ মাসের শিশু সন্তান থাকায় রোববার দিবাগত রাতে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখতে যেতে বারন করে মরিয়ম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জহিরুল লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে স্ত্রী মরিয়মের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। এসময় তার কান্নাকাটি শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে আসলে পালিয়ে যায় স্বামী জহিরুল। সে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং মাদকসেবী বলেও জানান স্থানীয়রা। এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন তারা।
এব্যাপারে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


