মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একই ভূখণ্ডে বসবাস করেন এবং কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে এই মানচিত্রের মধ্যে আছি, এটাই হলো বিএনপির রাজনীতি।”
আজ সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী বাজারের মালিবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করাকে সবচেয়ে বড় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “মানুষের সম্মান ও মর্যাদা না থাকলে কোনো কিছুরই মূল্য থাকে না। স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ দেশের মানুষকে লড়াই-সংগ্রাম ও আন্দোলন করতে হয়েছে।”
এ ভূখণ্ডে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, মারমা, মগ ও সাঁওতালসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সবার ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সর্বজনীন সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রেখে সবাই একসঙ্গে বসবাস করছেন। যেকোনো বিপদ-আপদে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিএনপি সরকারকে পাশে পাবেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় এবং মানবকল্যাণের বার্তাই এ উৎসবের মূল কথা। এর আনন্দের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা আরও জোরদার হয়। রাষ্ট্র সব ধর্মের মানুষকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের স্বীকৃতি দেয় এবং এ ক্ষেত্রে উৎসাহিত করে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি অতীতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে উল্লেখ করে তিনি দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি সব নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহসভাপতি মানিক সাহাসহ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


