কোনো প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সব বাধা উপেক্ষা করে দেশ এগিয়ে যাবে।
আজ রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ২.৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মিরপুর-কালশী ফ্লাইওভার উদ্বোধন উপলক্ষে কালশী বালুর মাঠের সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী সার্কেলের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৩৩৫ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইসিবি চত্বর থেকে কালশী পর্যন্ত ৩.৭০ কিলোমিটার রাস্তাও প্রশস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- মিরপুরবাসীর আরও একটি স্বপ্ন পূরণ হবে আজ
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করেছে। নৌকা মার্কা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আর নৌকা উন্নয়নের জোয়ারে এগিয়ে যাচ্ছে।
‘যত উজান ঠেলে যেতে হোক, নৌকা মার্কা ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি হিসাবে বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে চলবো, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করে জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন করা, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে দলের সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে। অনেক সংগ্রামের পথ বেয়েই জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ২০০৮ এর নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছি বলেই আজ বাংলাদেশকে আমরা উন্নত করতে পেরেছি।
আরও পড়ুন- চেয়ারম্যানের ছেলের পা ধরেও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেনি স্ত্রী
‘জাতির পিতা যেখানে স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন, আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদা বাস্তবায়ন করেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
২০৪১ সালে হবে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর পিছনে ফিরে তাকাবে না, কারও মুখাপেক্ষী হবে না।
২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকল্পটিকে অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে। তবে প্রায় চার মাস আগেই কাজ শেষ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- রোকাইয়াকে বাঁচাতে প্রয়োজন ৪ লাখ টাকা
এক হাজার ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও বাংলাদেশ আর্মি (২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড)।
প্রকল্পের বিবরণী অনুযায়ী, ফ্লাইওভারটি ইংরেজি ‘ওয়াই’ অক্ষরের মতো। এই প্রকল্পে যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ করার লক্ষ্যে আগের চারলেন বিশিষ্ট রাস্তাগুলোকে ছয়লেন করা হয়েছে।
প্রধান চারলেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভারটি ইসিবি চত্বর থেকে কালশী ও মিরপুরের ডিওএইচএস হয়ে গেছে। দুইলেন বিশিষ্ট র্যাম্পটি কালশী মোড় থেকে শুরু হয়ে কালশী সড়কে যাবে।
কালশী বালুর মাঠের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিম।



